{getBlock} $results={3} $label={ফিচার} $type={headermagazine}

পাকিস্তানকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল টাইগাররা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
✅ Link copied to clipboard!
পাকিস্তানকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল টাইগাররা

ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তানজিদ হাসান তামিমের নান্দনিক সেঞ্চুরি এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ভর করে পাকিস্তান বধের এই মহাকাব্য পূর্ণতা পেল আজ। শেষ ওভারের রোমাঞ্চ আর গ্যালারিভর্তি দর্শকের গগনবিদারি চিৎকারে মিরপুর আজ হয়ে উঠেছিল এক টুকরো আনন্দপুরী। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ২,১ ব্যবধানে জিতে নিল বাংলাদেশ।

টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং উপহার দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। বৃষ্টির চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলে আজ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। ৫টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে সাজানো তাঁর এই ইনিংসটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখায়। সেঞ্চুরি করার কিছুক্ষণ পরেই ১০৬ রানে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

লিটন দাস এবং রিশাদ হোসেন ইনিংসের মাঝপথে দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ধৈর্যশীল ব্যাটিং বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ২৯০ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাহিন আফ্রিদি এবং হারিস রউফ শেষের দিকে উইকেট তুলে নিয়ে রান কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

২৯১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। পাওয়ার প্লেতে তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিং পাকিস্তানের টপ অর্ডারকে তছনছ করে দেয়। মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। 

তাসকিনের বলে রিজওয়ানের অফ স্টাম্প উপড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল ম্যাচের অন্যতম হাইলাইট। নাহিদ রানাও তাঁর গতির জাদুতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলেন। মিডল অর্ডারে একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আগা। 

তাঁর অসাধারণ সেঞ্চুরি, ৯৮ বলে ১০৬ রান, পাকিস্তানকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিল। সাদ মাসুদ ৩৮ এবং আব্দুল সামাদ ৩৪ রান করে তাঁকে সঙ্গ দিলেও তাসকিন ও মোস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা হার মানেন।

ম্যাচের শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান যখন বল করছিলেন, তখন শাহিন আফ্রিদির একটি জোরালো শট তাঁর হাঁটুতে সরাসরি আঘাত হানে। ব্যথায় মাঠে শুয়ে পড়লেও কিছুক্ষণ পর ফিজিওর চিকিৎসায় উঠে দাঁড়ান কাটার মাস্টার এবং ওভারের শেষ বলে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বল হাতে নিলেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। প্রথম দুই বল ডট দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। তৃতীয় বলে ২ রান নিলেও চতুর্থ বলটি ছিল চমৎকার। পঞ্চম বলটি আম্পায়ার ওয়াইড দিলেও লিটনের আত্মবিশ্বাসে বাংলাদেশ রিভিউ নেয় এবং দেখা যায় বল ব্যাটে লেগেছে। শেষ বলে শাহিন আফ্রিদি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে মিস করেন এবং লিটন দাসের হাতে স্টাম্পড হন। ১১ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

ওপেনিংয়ে তানজিদ তামিমের ১০৬ রান ম্যাচের মূল ভিত গড়ে দিয়েছিল। তাসকিন আহমেদ ৪ উইকেট শিকার করে শুরুতে এবং মাঝপথে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সালমান আগাকে ফিরিয়ে জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। মোস্তাফিজুর রহমান পায়ে চোট পাওয়ার পরেও বোলিং চালিয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়া দলের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।

পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। ব্যাটে,বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের মাধ্যমে টাইগাররা প্রমাণ করল যে, ঘরের মাঠে তারা যেকোনো বিশ্বসেরা দলের জন্য আতঙ্ক। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অধীনে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। মিরপুরের দর্শকদের উল্লাস আর আতশবাজির আলোয় আজ উদ্ভাসিত হলো লাল,সবুজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আবারও প্রমাণ করল, রয়েল বেঙ্গল টাইগাররা হারতে জানে না।

একটি মন্তব্য করুন

💬 মন্তব্যের নিয়মাবলি:
- ভদ্র ও শালীন ভাষায় মন্তব্য করুন।
- স্প্যাম, বিজ্ঞাপন বা অপ্রাসঙ্গিক লিংক দেওয়া যাবে না।
- অশালীন বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে।
- প্রতিটি মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হয়।
- মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রদর্শিত হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন