{getBlock} $results={3} $label={ফিচার} $type={headermagazine}

২০২৬ সালে ফের যুদ্ধে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
✅ Link copied to clipboard!
২০২৬ সালে ফের যুদ্ধে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তান

সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)।

গত রোববার প্রকাশিত সংস্থাটির এক জরিপভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসী তৎপরতা’ ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ককে পুনরায় সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন কঙ্গো, গাজা উপত্যকা ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে ভারত–পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ডের মধ্যকার উত্তেজনাও প্রশমনের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সামরিক মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার এক মাস পর এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। ৬ মে রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে পাকিস্তানের ভেতরে কথিত সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে ৯টি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংসসহ শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারতের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই সময়ের বিমানযুদ্ধে তারা ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে, যার মধ্যে তিনটি ফরাসি তৈরি রাফাল, একটি রাশিয়ার সু-৩০ এবং একটি মিগ-২৯ ছিল। শুরুতে ভারত এ বিষয়ে নীরব থাকলেও সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ নেয়। ১০ মে উভয় দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনের (ডিজিএমও) মধ্যে যোগাযোগের পর নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) জুড়ে গোলাগুলি বন্ধে সমঝোতা হয়।

তবে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দাবি, মার্কিন হস্তক্ষেপেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।

সিএফআর-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যেও সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান বিমান হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে আফগানিস্তানের কঠোর প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে সিএফআর সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বাড়লে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।

একটি মন্তব্য করুন

💬 মন্তব্যের নিয়মাবলি:
- ভদ্র ও শালীন ভাষায় মন্তব্য করুন।
- স্প্যাম, বিজ্ঞাপন বা অপ্রাসঙ্গিক লিংক দেওয়া যাবে না।
- অশালীন বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে।
- প্রতিটি মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হয়।
- মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রদর্শিত হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন