মুক্তি পাচ্ছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্তরা: আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে দায়ের হওয়া সব স্পিচ অফেন্স মামলা বাতিল হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) অধীনে দায়ের হওয়া ‘স্পিচ অফেন্স’ সংক্রান্ত সব মামলা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও মামলার অভিযুক্ত সবাই দায়মুক্তি পাবেন।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেন আইন উপদেষ্টা।
🔹 ‘সব স্পিচ অফেন্স মামলার দায়মুক্তি’
আসিফ নজরুল তার পোস্টে লেখেন, “গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অধীনে দায়ের হওয়া সব ‘স্পিচ অফেন্স’ মামলা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও মামলায় অভিযুক্ত সবাই মামলার দায় থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।”
মামলাগুলো বাতিলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ সংশোধনের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের ৫০ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে রহিত হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে থাকা সব মামলা বাতিল করে একটি নতুন ধারা সংযোজন করা হচ্ছে, যা অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির আইনি ভিত্তি তৈরি করবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ সংশোধনসহ মোট ১১টি অধ্যাদেশ এবং তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকে দেশ-বিদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো আইনটির অপব্যবহারের অভিযোগ তোলে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই “গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার অগ্রগতি” হিসেবে দেখছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
💬 মন্তব্যের নিয়মাবলি:
- ভদ্র ও শালীন ভাষায় মন্তব্য করুন।
- স্প্যাম, বিজ্ঞাপন বা অপ্রাসঙ্গিক লিংক দেওয়া যাবে না।
- অশালীন বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে।
- প্রতিটি মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হয়।
- মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রদর্শিত হবে।